শাপলা চত্বর মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে

শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনকে আসামি; ২১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে দাখিল, ঢাকায় ৩২ জন নিহতের তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে
টুইট ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে পরিচালিত অভিযানে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়। বর্তমানে প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার কাজ চলছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের পর সেটি আইনগত ও তথ্যগত দিক থেকে যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়েরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আসামির তালিকায় তৎকালীন পুলিশ ও র্যাবের প্রধান, ঢাকা মহানগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীরের নামও রয়েছে।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর গভীর রাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে সমাবেশস্থল খালি করা হয়। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।






