রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী

‘নজরুল ভিলেজ’ উদ্বোধন: নতুন প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার নতুন ঠিকানা

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীতে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘নজরুল ভিলেজ’। জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও সাংস্কৃতিক দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির ফলক উন্মোচন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

ফলক উন্মোচনের পর বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রকল্প এলাকাকে সবুজে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি বৃক্ষরোপণ করেন প্রধান অতিথি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “আজ আমরা নজরুল ভিলেজের ফলক উন্মোচন করেছি। এর নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার পর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে রাজশাহীতে আমন্ত্রণ জানিয়ে এনে মহাসমারোহে এর চূড়ান্ত উদ্বোধন করানো হবে।”

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রকল্পের সার্বিক পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ‘নজরুল ভিলেজ’ হবে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও দর্শনের মুক্তচর্চার একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে নতুন প্রজন্মের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষ নজরুলচর্চার সুযোগ পাবেন।

জেলা প্রশাসক জানান, প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একটি আধুনিক ‘নজরুল মঞ্চ’ এবং সমৃদ্ধ ‘নজরুল কর্নার’। এখানে নিয়মিত কবিতা আবৃত্তি, নাটক, পালাগান, সংগীতানুষ্ঠান, সাহিত্য আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প এলাকায় কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না। সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও পরিবেশবান্ধব নকশায় বৃক্ষশোভিত একটি সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে দর্শনার্থী, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা প্রকৃতির স্নিগ্ধ পরিবেশে বসে রেওয়াজ, পাঠচক্র ও সাংস্কৃতিক চর্চা করতে পারবেন।

জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেকোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা সামাজিক সংগঠন নির্ধারিত নিয়মে এই প্রাঙ্গণ ব্যবহার করে নজরুলের সাহিত্য, নাটক, সংগীত ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। বছরজুড়ে ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’-এর আলোকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আগামী মাসে নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো এই প্রাঙ্গণে আয়োজনের লক্ষ্যে দ্রুত মঞ্চ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুধীসমাজের প্রতিনিধি, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং রাজশাহীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত অতিথিরা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মতে, ‘নজরুল ভিলেজ’ বাস্তবায়িত হলে এটি রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং জাতীয় কবির সৃষ্টিশীল চেতনা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।