বর্ণাঢ্য আয়োজনে বান্দরবানে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা

সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীর উদ্বোধন, নয় দিনব্যাপী ধর্মীয় আয়োজনে কীর্তন, শোভাযাত্রা, যজ্ঞ ও মহাপ্রসাদ বিতরন

বান্দরবান প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে শুরু হয়েছে নয় দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া মহাশোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী।

উদ্বোধন শেষে কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বালাঘাটা সার্বজনীন শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। ধর্মীয় সংগীত, হরিনাম সংকীর্তন এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুসারীর অংশগ্রহণে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস এবং পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী রথযাত্রা উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী সুজন কান্তি দাশ।

আয়োজকরা জানান, সনাতন ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রার সূচনা হয়। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, পূজা-অর্চনা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়।

নয় দিনব্যাপী এই উৎসবে হরিনাম সংকীর্তন, অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, ভাগবত আলোচনা, পদাবলী কীর্তন, আরতি, মহাপ্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথযাত্রা। সেদিন বালাঘাটা সার্বজনীন শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দির থেকে উল্টো রথযাত্রা শুরু হয়ে একই পথে সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরে ফিরে আসবে।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ‘জগন্নাথ’ অর্থ বিশ্বজগতের অধীশ্বর। ভক্তদের মতে, রথযাত্রায় অংশগ্রহণ ও জগন্নাথদেবের দর্শন আত্মিক কল্যাণ, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের বার্তা বহন করে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সমন্বিত প্রস্তুতি রয়েছে। শোভাযাত্রায় পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, সনাতন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।