গুলশান থেকে গ্রেপ্তার সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ

বিস্ফোরক আইনের মামলা ও মহাখালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় অভিযোগ; আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান, রিমান্ডে নেওয়ার সম্ভাবনা।

নিজস্ব প্রতি‌বেদক: রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

শনিবার (২৭ জুন) রাত প্রায় ৮টার দিকে গুলশানের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (জনসংযোগ ও গণমাধ্যম) নিয়াজ মেহেদী।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এর একটি জামালপুরে দায়ের হওয়া বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা, যেখানে তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। অন্যটি রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত ১৮ জুন সংঘটিত ককটেল বিস্ফোরণ ও মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলা, যেখানে তদন্তের ভিত্তিতে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে হাজির করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের মামলাটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা হয়েছে। মামলায় নূর মোহাম্মদ এজাহারভুক্ত আসামি। তবে মামলাটি ঠিক কবে দায়ের হয়েছে কিংবা অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র বলছে, এ ধরনের মামলায় সাধারণত অবৈধভাবে বিস্ফোরক দ্রব্য সংরক্ষণ, বহন, সরবরাহ বা ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়ে থাকে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১৮ জুন সংঘটিত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায়ও নূর মোহাম্মদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্ত করছে ডিবি। ওই ঘটনায় মিছিল চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নাশকতার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

পুলিশ এখনো কোনো মামলার সুনির্দিষ্ট ধারার তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৩, ৪ ও ৫ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

এ ছাড়া পরিস্থিতি ও অভিযোগের ধরন অনুযায়ী দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৫, ১৪৭, ১৪৮ ও ১৪৯ (অবৈধ সমাবেশ ও দাঙ্গা), ৩২৪ ও ৩২৬ (বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আঘাত), ৪২৭ ও ৪৩৫ (ক্ষতিসাধন), ৫০৫ (জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি) এবং প্রয়োজন হলে বিশেষ ক্ষমতা আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাও যুক্ত হতে পারে।

তবে এসব ধারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে উপস্থাপিত নথির ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ধারা নির্ধারিত হবে।

নূর মোহাম্মদ আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনৈ‌তিক নেতা। তিনি জামালপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতা, বিস্ফোরক, হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে একের পর এক মামলা এবং গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। নূর মোহাম্মদের গ্রেপ্তারও সেই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রবিবার (২৮ জুন) পর্যন্ত তাকে আদালতে হাজির করা, রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া কিংবা নতুন কোনো অভিযোগ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ডিবি কর্মকর্তারাও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাধারণত এ ধরনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর ডিবি হেফাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নূর মোহাম্মদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নাশকতা ও বিস্ফোরণ-সংক্রান্ত অভিযোগে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ গ্রেপ্তার সরকারের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত রূপ। আদালতের পরবর্তী আদেশ, রিমান্ড এবং তদন্তের অগ্রগতির মাধ্যমে মামলার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারিত হবে।