ভিএআরের অফসাইডে ভাঙল ইরানের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল বাতিল, মিশরের সঙ্গে ১-১ সমতা; নকআউটে ওঠার আশা এখন অন্য দলের ফলের ওপর নির্ভরশীল।

টুইট প্রতিবেদক: বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার দুয়ারে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইরানকে। ‘জি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল পেয়েও সেটি ধরে রাখতে পারেনি দলটি। ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোল বাতিল হয়।

ফলে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে মূল্যবান দুই পয়েন্ট হারিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াই কঠিন হয়ে গেছে ইরানের।

ওয়াশিংটনের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা তৃতীয় মিনিটে নাটকীয় মুহূর্তের জন্ম হয়। কর্নার থেকে আসা বলে মিশরের রক্ষণে তৈরি হওয়া জটলার সুযোগ নিয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান ডিফেন্ডার খলিলজাদেহ। গোলের আনন্দে পুরো ইরান শিবির উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত উদযাপনের কারণে গোলদাতাকে হলুদ কার্ডও দেখান ম্যাচের রেফারি।

কিন্তু গোল উদযাপনের মাঝেই ভিএআরে শুরু হয় পর্যালোচনা। রিপ্লেতে দেখা যায়, খলিলজাদেহের শরীরের বৈধভাবে গোল করার উপযোগী অংশের সামান্য অংশ, বিশেষ করে ডান পায়ের বুটের অগ্রভাগ, মিশরের শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে এগিয়ে ছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলের অফসাইড আইন অনুযায়ী সেটিই যথেষ্ট হওয়ায় দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র। গোলটি বহাল থাকলে ইরান ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে পাঁচ পয়েন্ট অর্জন করত এবং প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হতো।

কিন্তু ড্র হওয়ায় তিন ম্যাচে তিনটি সমতা নিয়ে ইরানের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে মাত্র তিন পয়েন্ট। ফলে শেষ ৩২-এ খেলার সম্ভাবনা এখন সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর হিসাব-নিকাশের ওপর নির্ভর করছে।

ম্যাচজুড়েই ভাগ্য যেন ইরানের বিপক্ষে ছিল। ১১ মিনিটে মেহদি তারেমি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। শেষ দিকে তার একটি শক্তিশালী হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। আর যোগ করা সময়ে খলিলজাদেহের বাতিল হওয়া গোল ইরানের হতাশাকে আরও গভীর করে তোলে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। এবারও সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে পারত।

কিন্তু ভিএআরের সূক্ষ্ম অফসাইড সিদ্ধান্ত তাদের স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এখন নকআউটে ওঠার ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখতে ইরানকে তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য গ্রুপের ফলাফলের দিকে।