রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসির রায়

১৯ দিনের মাথায় আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন
টুইট ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে। দুজনকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বেলা ১১টার পর তাদের এজলাসে তোলা হলে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন।
রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর বাসা থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার। অভিযোগ রয়েছে, সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না কৌশলে শিশুটিকে তাদের বাসায় ডেকে নেন। পরে তাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়।
ঘটনার কিছু সময় পর রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে সোহেলের বাসার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে কাটা মাথা দেখতে পান।
পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে।
ঘটনার পরদিন ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা। মামলার তদন্ত শেষে মাত্র চার দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এতে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।
গত ১ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণে ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ৪ জুন আদালত রায়ের জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হলো, যা সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুততম বিচারপ্রক্রিয়াগুলোর একটি হিসেবে আলোচনায় এসেছে।






