মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত নেই, জানালেন খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে দেখালেন অতীতের নজির।
টুইট প্রতিবেদক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দেশে ফিরে দায়িত্ব পালন নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতেও বাংলাদেশের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে বর্তমান সময়েও দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয় কোনো একক অর্জন নয়; এটি রাষ্ট্রের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতার ফল।
একসঙ্গে দুই পদে দায়িত্ব পালন এবং মন্ত্রিত্ব ছাড়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি চার দশক আগের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর একই সময়ে দুটি দায়িত্বই পূর্ণকালীনভাবে পালন করেছিলেন। সে সময় তিনি নিজেও হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, তখন আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা কিংবা ইন্টারনেটের সুবিধা ছিল না। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সমন্বয় করে পালন করা তুলনামূলকভাবে আরও সহজ এবং কার্যকর।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। বর্তমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তবে তার রাজনৈতিক দল নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় তিনি মন্ত্রিত্বে থাকতে পারেননি। সেটি ছিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট একটি ভিন্ন বাস্তবতা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও প্রভাব আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






