হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

আ.লীগ নেতাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবি

টুইট ডেস্ক: আওয়ামী লীগের এক নেতাকে নিরাপদে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। তার অভিযোগের তীর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আলোচিত সমন্বয়ক হান্নান মাসউদের দিকে।

বুধবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এ অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তবে এ বিষয়ে হান্নান মাসউদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাশেদ খাঁন দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতেন হান্নান মাসউদ।

স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের এক সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কয়েক কোটি টাকার সমঝোতার আলোচনা হয়। সেখানে হান্নান মাসউদ নাকি আরও বেশি অর্থ আদায়ের জন্য চাপ দেন।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনার সময় উপস্থিত ছিলেন আবদুল গাফফার জিসান নামে এক ব্যক্তি, যাকে তিনি “ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী পর্যায়ে রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আবদুল গাফফার জিসান আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় জিসান সমন্বয়কদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং নিরাপত্তা ও ভিডিও ধারণের দায়িত্ব পালন করতেন।

স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, নোয়াখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণেই তাকে গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখেন হান্নান মাসউদ। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে শুরুতেই ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করানোর চেষ্টা চালানো হয়।

রাশেদ খাঁনের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় হান্নান মাসউদ নোয়াখালীর রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করতে অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়েও মন্তব্য করেছিলেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা এ ধরনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ করা ঠিক হবে না।

এ বিষয়ে হান্নান মাসউদ বা সংশ্লিষ্ট অন্যদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।