আড়াইহাজারে মাটি কাটার দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা নিহত

অবৈধ মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধে জনদুর্ভোগ।
টুইট প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে বিএনপির এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওসমান গনি (৪০) ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ ও যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া এলাকার বিলসংলগ্ন কাউন্দার চক এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন ওসমান গণির ওপর হামলা চালায়।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে আড়াইহাজার জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চললেও পথেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। নিহত ওসমান গনি বড় বিনাইরচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার আত্মীয় এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব জুবায়ের হোসেন জিকুর ছোট চাচা ছিলেন।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নিহতের স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়কের বিনাইরচর এলাকায় অবরোধ গড়ে তোলেন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালালে পুরো সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনচালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা চলছিল।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই পরিস্থিতি এতদূর গড়িয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতাকর্মীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






