বিশ্ব মৌমাছি দিবস ২০২৬: গুরুত্ব তুলে ধরলেন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান

পরিবেশ ও অর্থনীতিতে মৌমাছির অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরল ব্যাংকিং খাত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কৃষি অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৌমাছির গুরুত্বে বিশেষ বার্তা।
টুইট প্রতিবেদক: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মানুষের জীবন, জীবিকা এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে বহুমাত্রিকভাবে প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘বিশ্ব মৌমাছি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এক বিশেষ বার্তায় মৌমাছির পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এক বার্তায় বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় মৌমাছির ভূমিকা অপরিসীম। তারা বিশ্বের প্রায় নব্বই শতাংশ বন্য ফুলগাছের পরাগায়নে সহায়তা করে এবং বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের উৎপাদনের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি টিকে থাকার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, মৌমাছি না থাকলে পৃথিবীর খাদ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে, কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাবে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দিকে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে বনাঞ্চল সংকুচিত হচ্ছে, কৃষি উৎপাদন কমছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে।
বার্তায় আরও বলা হয়, সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী মৌয়াল সম্প্রদায়ের জীবন ও জীবিকা মৌমাছির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মধু সংগ্রহ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
ব্যাংকিং খাতের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি মূলত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। মৌমাছির সংখ্যা কমে গেলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাবে, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং ঋণ ঝুঁকি বেড়ে যাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর হবে।
এছাড়া, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে মৌয়াল ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ক্ষুদ্র ঋণ, মৌসুমি ঋণ এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। উপকূলীয় ও বননির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত জনগোষ্ঠীকে পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, মৌমাছি কেবল মধু উৎপাদনের প্রতীক নয়; বরং এটি একটি সুস্থ পরিবেশ, কৃষি উৎপাদন এবং মানবসভ্যতার টিকে থাকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রকৃতি, নদী ও বন রক্ষার মধ্য দিয়েই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
সবশেষে বলা হয়, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রকৃতিনির্ভর জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো জরুরি। ‘মানুষ ও প্রকৃতির কল্যাণে মৌমাছির সঙ্গে একসাথে’ এই বার্তাই তুলে ধরা হয় বিশ্ব মৌমাছি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে।







