করাতি পেশা বিলুপ্তির পথে

প্রযুক্তির দাপটে হারাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, জীবিকা বদলে বিপাকে পুরোনো কারিগররা।

টুইট প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একসময় বহুল প্রচলিত করাতি পেশা এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। আধুনিক যান্ত্রিক করাতকলের বিস্তারে শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে, ফলে জীবিকার সন্ধানে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

এক সময় গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য ছিল করাতিদের দলবদ্ধ কাজ। কাঁধে করাত, হাতে কুড়াল ও দড়ি নিয়ে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে গাছ কাটার ডাক দিতেন তারা।

বড় গাছ কেটে তক্তা, খুঁটি ও রুয়া তৈরিতে তাদের দক্ষতা ছিল অনন্য। করাত টানার সময় সুরেলা গানের ছন্দে কাজের পরিবেশ হয়ে উঠত প্রাণবন্ত,যা দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমত।

স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন থেকে চার দশক আগেও প্রতিটি গ্রামে একাধিক করাতি দল সক্রিয় ছিল। ঘর নির্মাণের জন্য বড় গাছ কেটে কাঠ

প্রস্তুতের ক্ষেত্রে তাদের ওপরই নির্ভর করতেন গৃহস্থরা। একটি দলে চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করতেন এবং মৌসুমজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

তবে সময়ের পরিবর্তনে এই চিত্র এখন আর চোখে পড়ে না। যান্ত্রিক করাতকলের সহজলভ্যতা, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার সুবিধা এবং কম খরচে উৎপাদনের কারণে

ঐতিহ্যবাহী করাতি পেশার চাহিদা প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে বংশপরম্পরায় এ পেশায় যুক্ত অনেকেই কৃষিকাজ, দিনমজুরি বা অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।

রামগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করাতি পেশা দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা পেলে এ পেশাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিলে ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্তও উন্মোচিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়;সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবেও

করাতি পেশাকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ জরুরি। নচেৎ অচিরেই গ্রামবাংলার এই জীবন্ত ইতিহাস শুধুই স্মৃতির পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।