নবীনগরে ঘুষিতে মৃত্যু, তদন্তের আগেই ২০ লাখ টাকায় আপোষের অভিযোগ

ময়নাতদন্ত ও মামলা শুরুর আগেই ‘রফাদফা’আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

টুইট প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তুচ্ছ বিরোধের জেরে ঘুষির আঘাতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই ২০ লাখ টাকায় আপোষ-মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নিহত হানিফ মিয়া, নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের দাবি, নৌকায় বসা নিয়ে সামান্য বিরোধের জেরে সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পরপরই এলাকার প্রভাবশালী মহল, সাহেব সর্দার ও কিছু জনপ্রতিনিধি উপস্থিতিতে,ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ কিংবা পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর আগেই বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

একটি বৈঠকে নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নবীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মেহেদী হাসান বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। উভয় পক্ষই দরিদ্র। দীর্ঘ মামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের নেই।

এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে আপোষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, এই ধরনের আর্থিক সমঝোতা ক্রমেই একটি অপসংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে।

এতে অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অপরাধপ্রবণতা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এদিকে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ ইতোমধ্যে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই এ ধরনের আপোষের উদ্যোগ ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং আইনের শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপই এখন এ ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য সমাধানের একমাত্র পথ।