হরমুজে চীনের কড়া বার্তা: ইরানের পাশে বেইজিং

চীনের বার্তা: হরমুজে ইরানের পাশে। জ্বালানি ও বাণিজ্য চুক্তি রক্ষায় অঙ্গীকার, ‘হস্তক্ষেপ না করার’ কড়া সতর্কতা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল), ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে চীন সরাসরি ইরানের পাশে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাডমিরাল দং জুন সোমবার (১৩ এপ্রিল) বলেছেন, বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেইজিং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি জানান, চীনের নৌযানগুলো নিয়মিত হরমুজ প্রণালির জলসীমায় যাতায়াত করছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইরানের সঙ্গে চীনের বিদ্যমান বাণিজ্য ও জ্বালানি চুক্তি রয়েছে—এবং বেইজিং সেগুলো ‘সম্মান ও বাস্তবায়ন’ করবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, তিনি অন্য দেশগুলোকে ‘হস্তক্ষেপ না করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং সেই পথ চীনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে—এমন প্রত্যাশা বেইজিংয়ের।
চীনের এই অবস্থান কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্ব তেলের বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই পথের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন একদিকে ‘শান্তির পক্ষে’ অবস্থান বজায় রাখলেও অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে তার গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও জ্বালানি নির্ভরতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট, যেখানে সামান্য উত্তেজনাও তেলের দাম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় এই অঞ্চলের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।






