জামায়াতের নারী আসন চূড়ান্তকালীন বৈঠক আজ

সংরক্ষিত ১৩ আসনে ভাগ-বণ্টন প্রায় নিশ্চিত, যোগ্যতা ও ত্যাগের ভিত্তিতেই বাছাই।
টুইট ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের আজকের বৈঠকে প্রার্থীদের তালিকা অনুমোদনের কথা রয়েছে।
আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিরোধী জোটের কোটাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী মোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
এর মধ্যে এককভাবে জামায়াত পেতে পারে ১২টি আসন, আর বাকি একটি আসন যাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর ঝুলিতে।
শরিক অন্য দলগুলোর প্রত্যাশা থাকলেও আসন বণ্টনের বাস্তবতায় তাদের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
প্রার্থী বাছাইয়ে এবার ব্যতিক্রমী কৌশল নিয়েছে জামায়াত। অন্য দলের মতো উন্মুক্তভাবে মনোনয়ন ফরম বিতরণ না করে দলীয়ভাবে বাছাইকৃত নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থীকেই বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ত্যাগ, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, মহিলা বিভাগের প্রস্তাবিত তালিকা পর্যালোচনা করা হলেও সেটিই চূড়ান্ত নয়।
নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, “যোগ্যতা, সাংগঠনিক মান এবং আইন প্রণয়ন বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সক্ষমতা এসব দিক গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবীসহ পেশাজীবীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।”
দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনায় আরও জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নারী নেত্রীরা বিবেচনায় থাকতে পারেন।
পাশাপাশি যেসব এলাকায় জামায়াতের সংসদ সদস্য নেই, সেসব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় কয়েকটি নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।
তাদের মধ্যে রয়েছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, ডা. আমেনা, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, ডা. ফেরদৌস আরা খানম বকুল এবং মারদিয়া মমতাজসহ আরও অনেকে।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো নাম প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত আসনের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি যোগ্য প্রার্থী থাকায় এবার জামায়াতের জন্য বাছাই প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে দলটি যে কৌশলগতভাবে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য মুখগুলোকে সামনে আনতে চাইছে, তা স্পষ্ট।






