ইরানের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে প্রস্তুত চীন

চীন ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে: মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে নতুন উদ্বেগ।
বিশ্ব ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুসারে, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁধ থেকে ছোড়া অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা ম্যানপ্যাডস নামে পরিচিত। এই অস্ত্র নিম্ন উচ্চতায় উড়ন্ত বিমানের জন্য বিশেষ হুমকি সৃষ্টি করতে সক্ষম।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। চীন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে এই সরবরাহ লুকিয়ে করার চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যে নতুন উত্তেজনা
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। এই সময়ে চীনের সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ম্যানপ্যাডস-এর মতো সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
এর আগেও চীন ইরানকে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র জ্বালানির উপাদান সরবরাহ করে আসছে। সম্প্রতি চীনের গাওলান বন্দর থেকে ইরানি জাহাজে সোডিয়াম পারক্লোরেট নামক রাসায়নিক পাঠানো হয়েছে, যা কঠিন জ্বালানিযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ট্রাম্পের কড়া সতর্কবাণী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাত্রার সময় সাংবাদিকদের বলেন, চীন যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে তাহলে বেইজিংকে ‘বড় সমস্যায়’ পড়তে হবে। তিনি স্পষ্টভাষায় বলেন, “যদি চীন এটা করে, তাহলে চীনের বড় সমস্যা হবে।”
চীনা দূতাবাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এগুলো ভিত্তিহীন। বেইজিং দাবি করেছে যে তারা কোনো পক্ষকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না এবং সরবরাহগুলো বাণিজ্যিক প্রকৃতির।
এই ঘটনা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন ইরানের সঙ্গে তার কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করছে, যা অঞ্চলীয় ভারসাম্য পরিবর্তন করতে ভূমিকা রাখবে।
এটি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ আলোচনার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: সিএনএন, নিউজউইক, রয়টার্স






