ফেল করলে সর্বোচ্চ দুইবার সুযোগ

পাবলিক পরীক্ষায় কঠোর নীতির ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

টুইট ডেস্ক: এসএসসি ও এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ দুইবার অংশগ্রহণের সুযোগ নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বারবার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রচলিত ব্যবস্থা আর চলবে না।

শনিবার রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে।

‘বারবার ফেল-আর নয়’

মন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থী একাধিকবার ফেল করলেও বারবার তাকে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তার ভাষায়, “ফেল করা শিক্ষার্থীদের বারবার সুযোগ দিয়ে পাস করানো আমাদের মূল দায়িত্ব হতে পারে না।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে অতিরিক্ত সংখ্যক প্রশ্নপত্র তৈরি করে শিক্ষার্থীদের পাস করানোর প্রবণতা বাড়ছে, যা সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রমে সমালোচনা

শিক্ষা বোর্ডগুলোর ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বোর্ডগুলো স্বায়ত্তশাসিত হলেও তাদের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রয়োজন হলে আইন পরিবর্তনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা

প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস হলেও তা শনাক্ত করা সম্ভব। এ বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় উপস্থিতি

সভায় সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী।

মানোন্নয়নে জোর

শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু পাশ করানোর ওপর গুরুত্ব না দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।