তেল আছে শুধু সংসদে, দেশে নেই: জামায়াত আমির

জ্বালানি সংকট, সিন্ডিকেট ও কৃষি ঝুঁকি নিয়ে জামায়াত আমিরের তীব্র সমালোচনা
টুইট ডেস্ক: দেশের জ্বালানি খাতে তীব্র সংকটের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই।” তার মতে, সংসদে সরকারের বক্তব্যে বাস্তবতার প্রতিফলন নেই, বরং সাধারণ মানুষ জ্বালানি পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।
শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি খাতে ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশের বড় বড় সিন্ডিকেটগুলোর পেছনে সরকারি দলের প্রভাব রয়েছে। তার ভাষায়, “সংসদে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে, অথচ সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ‘গোঁজামিল’ দিয়ে অর্থনীতি চালানো হচ্ছে—যেখানে বাস্তবে নগদ অর্থের সংকট থাকলেও কাগজে-কলমে লাভ দেখানো হচ্ছে।
সংসদীয় কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ
সংসদের কার্যক্রম নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন। তবে এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষি খাতে সংকটের সতর্কবার্তা
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব কৃষিতে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেচ দিতে না পারায় কৃষকরা চাপে আছেন, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তার ভাষায়, “কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষির বিপর্যয় মানেই জাতীয় বিপর্যয়।”
সমাধানে করণীয় প্রস্তাব
সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানির বাফার স্টক গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছতা, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং সৌরশক্তিসহ বিকল্প জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংগঠন ও নেতৃত্ব নিয়েও মন্তব্য
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনে নেতৃত্ব দখলের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হলে সুস্থ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা সম্ভব নয়।
সেমিনারে অংশগ্রহণ
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. মো. মিজানুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি ড. এ টি এম মাহবুব ই ইলাহী (তাওহীদ)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ মাসউদ।
পরবর্তীতে তিনি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।






