ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিশেষজ্ঞদের লিখিত প্রস্তাব বিনিময় শুরু

ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে চলছে সরাসরি বৈঠক, যুদ্ধবিরতি স্থায়ীকরণে অগ্রগতির সম্ভাবনা।
বিশ্ব ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। তেহরান থেকে আসা ইরানি প্রতিনিধিদল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল সেরেনা হোটেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠক করেছেন।
আলোচনার পর উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞ দলগুলো লিখিত প্রস্তাব ও দলিল বিনিময় শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এটি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম মুখোমুখি আলোচনা। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইরানি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনা এখন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে চলছে। অর্থনৈতিক, সামরিক, আইনি ও পারমাণবিক বিষয়ে চারটি কমিটি গঠন করে কাজ চলছে। তিন দফা বৈঠকের পর রাত পর্যন্ত আলোচনা অব্যাহত ছিল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, প্রতিনিধিদল দেশের স্বার্থ রক্ষায় পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও আলোচনাকে ‘গভীর’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র: উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে। সঙ্গে রয়েছেন জারেদ কুশনার ও স্টিভ উইটকফ।
ইরান: পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির উভয় প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়েছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর রাখা হয়েছে।
দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনও ভঙ্গুর। হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, জমা সম্পত্তি মুক্তি এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি—এসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি পূর্বশর্ত মেনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ আলোচনাকে ‘সাফল্য অথবা ব্যর্থতা’র মোড় বলে অভিহিত করেছেন।






