মহাকাশে নতুন ইতিহাস, পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী

চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন; মানব মহাকাশ অভিযানে ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলছে নাসা।
টুইট ডেস্ক: মানব মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করে পৃথিবীতে ফিরেছেন চার নভোচারী।
চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে আর্টেমিস-২ মিশন–এর নভোযান নিরাপদে অবতরণ করেছে, যা ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযান ও গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৬টা ৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে ওরিয়ন মহাকাশযান।
দীর্ঘ এই অভিযানে নভোযানটি প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে, যা মানুষের মহাকাশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন দূরত্বের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো-১৩ অভিযানের নভোচারীরা সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছানোর রেকর্ড গড়েছিলেন।
নতুন এই অর্জন সেই সীমা অতিক্রম করে মানব মহাকাশ অভিযানের সক্ষমতাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিল।
অবতরণের সময় ওরিয়ন নভোযানটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল বেগে সমুদ্রে আঘাত হানে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে এ ধরনের আঘাত অত্যন্ত তীব্র অনুভূত হয়, যেন কঠিন কোনো দেয়ালে আঘাত লাগছে। তবে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা,বিশেষ করে এয়ারব্যাগ প্রযুক্তি,নভোযানটিকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অবতরণের পরপরই উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। নৌবাহিনীর ডুবুরি ও হেলিকপ্টার সহায়তায় ধাপে ধাপে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে নভোচারীদের হেলিকপ্টারে করে যুদ্ধজাহাজে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
নাসা জানিয়েছে, চার নভোচারীই সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসা পরীক্ষায় তাদের অবস্থা সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা এই মিশনকে ‘বিশ্বের জন্য উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফল মিশন ভবিষ্যতে মানুষের চাঁদে পুনরাগমন এবং আরও দূরবর্তী মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি শক্তিশালী করবে।
ওরিয়ন মহাকাশযান,এর সফল প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করেছে, দীর্ঘমেয়াদি গভীর মহাকাশ যাত্রা এখন আর কল্পনা নয়,বাস্তবতার দোরগোড়ায়।






