দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

টুইট ডেস্ক: বিগত ১৬ বছরে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, একই সঙ্গে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতও অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও ভেতরে কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকট হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে এবং কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান না বাড়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষিখাতে যুক্ত হচ্ছেন, ফলে ছদ্ম বেকারত্ব বাড়ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কৃষি খাতে কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ হলেও জাতীয় আয়ে এর অবদান মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, যা নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

তিনি জানান, জাতীয় সঞ্চয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ২৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩-২৪ সালে ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৬৭ টাকা থেকে বেড়ে ১২১ টাকায় পৌঁছেছে, যার ফলে আমদানি ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে।

ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকটের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি এবং বাজেট ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সময়ে বাস্তবায়িত বড় বড় প্রকল্পগুলো যথাযথ যাচাই ছাড়াই নেওয়া হয়েছে এবং এতে অতিমূল্যায়নের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ বেড়েছে

বিবৃতিতে তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল ৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ১ হাজার ১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বেসরকারি খাত, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে সমস্যায় পড়ছেন।

এছাড়া অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, হুন্ডি ও অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।