কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে গুলি, প্রাণ গেল বাংলাদেশির

ভারতের ভেতরে প্রবেশের পর খাসিয়াদের গুলিতে নিহত; সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঘিরে ফের উদ্বেগ।

টুইট ডেস্ক:সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিকাল প্রায় ৩টার দিকে কালাইরাগ (কাউয়ার টুক) সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সালেহ আহমেদ জয়ধর উপজেলার কালাইরাগ (কারবালার টুক) গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তার মরদেহ সঙ্গীরা বাংলাদেশে নিয়ে আসে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, তিনজন বাংলাদেশি অবৈধভাবে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে ভারতের চংকেট ও মারকানের সুপারি বাগান এলাকায় প্রবেশ করেন।

এ সময় স্থানীয় খাসিয়ারা তাদের সুপারি চোর সন্দেহে ছড়রা বন্দুক দিয়ে কয়েক দফা গুলি ছোড়ে। এতে সালেহ আহমেদ গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

তার সঙ্গে থাকা সুমন মিয়া (২৫) ও মাসুম আহম্মদ (২০) দ্রুত তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।

বিজিবি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তিনজনের বিরুদ্ধে পূর্বে চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, একই সীমান্ত এলাকায় এর আগেও উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেছে। গত ১ এপ্রিল উৎমা সীমান্তের ভারতীয় অংশে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি নিখোঁজ হন। পরিবারের দাবি, তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে,

যদিও এখনো তার মরদেহ বা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ভারতের ভেতরে গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে।

মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।

অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জোরালো হয়ে উঠছে।