বৈসাবি নয়, নিজস্ব নামে উৎসব পালনের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

প্রতিটি সম্প্রদায়ের স্বকীয়তা রক্ষায় সরকারের নতুন বার্তা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক উৎসবগুলো আর ‘বৈসাবি’ নামে নয়, বরং প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব নাম ও ঐতিহ্য অনুযায়ী পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি দেশের জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কোনো একক নামের আড়ালে সব সম্প্রদায়ের পরিচয় ঢেকে রাখা উচিত নয়।
মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, ‘বৈসাবি’ শব্দটি মূলত তিনটি সম্প্রদায়ের নামের আদ্যক্ষর থেকে এসেছে—বিজু (চাকমা), সাংগ্রাই (মারমা) এবং বৈসু (ত্রিপুরা)। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট ১১টি সম্প্রদায়ের বসবাস থাকায় একক নাম ব্যবহার অন্যান্য জাতিসত্তার প্রতি অবিচার বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা চাই যে সম্প্রদায় যে নামে উৎসব পালন করে, সেই নামেই তা উদযাপিত হোক। এতে কোনো বৈষম্য থাকবে না, বরং পারস্পরিক সম্মান ও সম্প্রীতি আরও জোরদার হবে।”
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১২ এপ্রিল রাজধানীতে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ‘বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান’সহ বিভিন্ন নামে উৎসব উদযাপন করা হবে। একই দিনে বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে রমনা পার্ক পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও পুষ্প বিসর্জন আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১২ এপ্রিল ‘ফুল বিজু’, ১৩ এপ্রিল মূল বিজু এবং ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আচার পালিত হবে। এ সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায় প্রার্থনায় অংশ নেবে এবং মারমা সম্প্রদায় জলকেলি উৎসবে মেতে উঠবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, “উৎসব হবে রংধনুর মতো বহুবর্ণের। প্রতিটি সম্প্রদায়ের স্বকীয়তা ফুটে উঠবে, সেটাই আমাদের শক্তি।”
সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।





