সীতাকুণ্ডে টিনশেড ধস: প্রাণ গেল দুই শ্রমিকের

ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ, নিরাপত্তা অবহেলার অভিযোগে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা।

টুইট ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি গুদাম কারখানায় টিনশেড ধসে দুই শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা সামনে এসেছে।

বুধবার দুপুরে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া বক্তারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর মো. ফারুক (৩০) ও কুমিল্লার মো. জহির (৩৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘অল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি গুদামে কয়েকজন শ্রমিক ওয়েল্ডিং মেশিন দিয়ে টিনশেড কাটার কাজ করছিলেন।

কাজ চলাকালীন হঠাৎ পুরো চালাটি ভেঙে পড়ে। এতে ভারী টিনশেডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ফারুক ও জহিরের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর সহকর্মীরা দ্রুত ক্রেন এনে ধসে পড়া অংশ সরিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা কারখানা মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল।

সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব এবং প্রকৌশল তদারকির ঘাটতিই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, কারখানাটিতে বিভিন্ন রোলিং মিলের ধূলিকণা

সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করা হতো। তবে প্রতিষ্ঠানটির বৈধ অনুমোদন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং মালিকপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে কারখানাটির অনুমোদন ও নিরাপত্তা মানদণ্ডও যাচাই করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারী কাঠামো অপসারণ বা কাটার সময় ঝুঁকি মূল্যায়ন, সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং প্রকৌশল তদারকি নিশ্চিত না করলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়।