তেলে কারসাজি গৌরীপুরে অভিযান

৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েবের অভিযোগে পাম্প ম্যানেজার গ্রেপ্তার, তদন্তে অনিয়মের ইঙ্গিত।

টুইট প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জ্বালানি তেল নিয়ে ব্যাপক কারসাজির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েবের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা স্থানীয় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে গত এক সপ্তাহে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এসব তেল কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার ডিপো থেকে উত্তোলনের কথা থাকলেও বাস্তবে তার বড় অংশের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে স্টেশন ম্যানেজার জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কেবল ৯ হাজার লিটার পেট্রোল প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেন, যা বরাদ্দের তুলনায় অত্যন্ত কম।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চলতি মাসে ওই ফিলিং স্টেশন মাত্র একদিন পেট্রোল বিক্রি করেছে।

ফলে জ্বালানি সংকটের সময়েও তেল সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ জোরালো হয়েছে।

এদিকে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান।

তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ৩ এপ্রিল ৯ হাজার লিটার পেট্রোল বরাদ্দের তথ্য তাকে জানানো হয়েছিল, যা পরদিন বিতরণ করা হয়। তবে বাকি তেলের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতে এ ধরনের অনিয়ম কেবল বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে না, বরং ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপও তৈরি করে।

ঘটনাটি ঘিরে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।