প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ: ২ লক্ষ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পোশাক

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

টুইট ডেস্ক: বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন দিগন্ত

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লক্ষ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল পোশাক (ড্রেস) বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সকল উপজেলায় ‘স্কুল ফিডিং’ বা মধ্যাহ্নভোজ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল রূপান্তর ও ‘শিক্ষা-পরিচয়’

নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ ডিজিটাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী:

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।

ফ্রি ওয়াই-ফাই: ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে ১৫০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে।

শিক্ষা-পরিচয় (এডু-আইডি): প্রতিটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদান করা হবে।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান:

সকল উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ এবং জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।

আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২,৩৩৬টি কারিগরি ও ৮,২৩২টি মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে।

মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ ও কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

আগামীর দক্ষতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইসিটি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ৬ মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট (ফ্লাটার), পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল বিপণন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ৪৩টি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন।