লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি প্রাণহানি

আটক করতে গিয়ে ধস্তাধস্তি ও গুলিবর্ষণের দাবি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর
টুইট ডেস্ক: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আলী হোসেন পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও বিজিবির ভাষ্য
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) আওতাধীন ধবলগুড়ি সীমান্ত ফাঁড়ির ৮৭৪/৫ এস নম্বর পিলারের নিকটবর্তী ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে দুই দফায় গুলির শব্দ শোনা যায়। বিএসএফের সাতগ্রাম ক্যাম্পের সদস্যরা রাত ২টা ৫০ মিনিট ও ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এই গুলিবর্ষণ করে।
ঘটনার পর সকালেই বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। বিএসএফের দাবি অনুযায়ী, ৭ থেকে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক কাঁটাতারের বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করলে তারা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হলে আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি চালায়। এতে আলী হোসেন গুরুতর আহত হন এবং বিএসএফের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভারতীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
৬১ বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা ও উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে ‘স্পট মিটিং’ বা তাৎক্ষণিক বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তে উত্তেজনা
এই হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের বিবাদপূর্ণ সীমান্ত নীতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার এমন প্রাণহানি ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে বিজিবি সীমান্তে টহল জোরদার করেছে এবং মৃতদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।






