১/১১ ষড়যন্ত্রের নতুন তথ্য, রিমান্ডে ‘গোপন নেটওয়ার্ক’ উন্মোচনের দাবি

সাবেক ডিজিএফআই প্রধানের উভয় জবানবন্দি ঘিরে তৎপর
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোচিত এগারো’ অধ্যায় ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে রিমান্ডে থাকা সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের দেওয়া তথ্য।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত, যা তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব তথ্য এখনও যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তদন্ত অব্যাহত আছে।
তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যগুলোকে ‘সংবেদনশীল’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রিমান্ডে দেওয়া বক্তব্যে মামুন খালেদ দাবি করেছেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির ঘটনাপ্রবাহ হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্তের ফল ছিল না; বরং এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কাজ করেছে।
তার ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র জনমতকে নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালায়।
সূত্রগুলো জানায়, ওই সময় দেশের প্রভাবশালী কিছু গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে এমন বয়ান প্রচার করা হয়, যাতে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়।
একই সঙ্গে ‘বিরাজনীতিকরণ’ ধারণাকে সামনে এনে বিকল্প কাঠামোর পক্ষে জনমত তৈরির প্রয়াস ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, জবানবন্দিতে বিদেশি সংযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
বিশেষ করে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক শক্তির প্রভাবকে কাজে লাগানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
একই সঙ্গে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা তথ্য যাচাই ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছিল, যা জনমত প্রভাবিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক-এগারো পরবর্তী সময়ে ‘মাইনাস টু’ সূত্র ও দলীয় বিভাজনের প্রশ্ন এখনো স্পর্শকাতর ইস্যু।
বর্তমান তদন্তে এসব প্রসঙ্গ পুনরায় সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য সরাসরি গ্রহণযোগ্য নয়; প্রতিটি তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হচ্ছে।
প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এ তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
তবে যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হলে তা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।






