ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ: তীব্র বিমান হামলা চলছে ইরানে

হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সময়সীমা শেষপ্রান্তে, তেহরানে হামলার খবর—যুদ্ধ ঝুঁকি তীব্রতর।

বিশ্ব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইরান-এর রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় মঙ্গলবার মধ্যে (৮ এপ্রিল) রাতের পর থেকে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রাক্কালে, যা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের বিভিন্ন স্থানে তীব্র বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড এবং ঘন ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে। একই সঙ্গে খার্গ দ্বীপ-সহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার খবরও পাওয়া গেছে।

চূড়ান্ত সময়সীমা ও কঠোর হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসমূহে ব্যাপক হামলা চালানো হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, “অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে,”—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরের দিকে এই সময়সীমা শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চলছে। খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামোর কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছে, তবে মূল তেল রপ্তানি টার্মিনাল এখনো অক্ষত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চায় এবং অস্থায়ী চুক্তিতে রাজি নয়। দেশটি যুবকদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় মানবঢাল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা অবস্থান

ইরান জানিয়েছে, তারা অস্থায়ী সমঝোতায় নয়, বরং স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী। দেশটির পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বৈশ্বিক প্রভাব ও জ্বালানি ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ—বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথে পরিবাহিত হয়। এর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক চাপে পড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। কয়েকটি রাষ্ট্র সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর সমাধানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমান পরিস্থিতি কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের অনড় নীতির ফলে সংঘাতের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।

এই সংকট নিরসনে অবিলম্বে কূটনৈতিক সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ। অন্যথায়, মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহৎ যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।