এক বিমানে দুই কূটনীতিবিদ

দিল্লি-মরিশাস সফরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত।

টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন মোড়ে ঘোরার ইঙ্গিত মিলছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শংকর একই বিমানে করে মরিশাস সফরে যাচ্ছেন,যা দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী ৯ এপ্রিল দিল্লি থেকে মরিশাসগামী বাণিজ্যিক ফ্লাইটে একসঙ্গে যাত্রা করবেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দীর্ঘ এই বিমানযাত্রায় দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে একান্তে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এর আগে ৭ এপ্রিল দিল্লিতে পৌঁছে খলিলুর রহমান ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক।

যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক এখনো নিশ্চিত হয়নি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফরে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ, বাণিজ্য সুবিধা পুনর্বহাল এবং জ্বালানি সহযোগিতা এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বাণিজ্য সুবিধা স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা চাপে পড়েছেন, যা পুনরায় চালুর বিষয়ে জোর দেবে ঢাকা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছিল।

তবে নতুন সরকারের অধীনে প্রথম উচ্চপর্যায়ের এই সফর সম্পর্কের ‘পথ সংশোধন’-এর সূচনা হতে পারে।

ভারতের সাবেক কূটনীতিকদের মতে, উভয় দেশই এখন বাস্তববাদী অবস্থানে ফিরতে চাইছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেমন সীমান্ত ও বাণিজ্য ইস্যুতে অগ্রগতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তেমনি ভারতও কানেক্টিভিটি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান চাইতে পারে।

এদিকে মরিশাসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগর সম্মেলনেও দুই দেশের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

ফলে দিল্লির সংক্ষিপ্ত সফর হলেও বাস্তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতা কয়েকদিনব্যাপী বিস্তৃত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, খলিলুর রহমানের এই সফরকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়,বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ,ভারত সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।