নতুন পে-স্কেলে ঘোষণা আসছে

প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনার অপেক্ষা, ধাপে বাস্তবায়নের ইঙ্গিত।

 

টুইট ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অবশেষে গতি আসার আভাস মিলেছে।

প্রস্তাবিত পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা নিতে আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন,যার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান,তাদের প্রতিবেদনে বেতন ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।

এতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এই সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে, বেতন কমিশনের সুপারিশ যাচাইয়ের জন্য গঠিত পর্যালোচনা কমিটি এখনো কার্যকর হয়নি।

গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় নতুন সরকারের দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে কমিটির কার্যক্রম।

সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো চালু করা।

এজন্য সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে। সেক্ষেত্রে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হতে পারে,প্রথমে মূল বেতন, পরে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা যুক্ত করা হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে।

ফলে সরকার আপাতত ব্যয় সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করলেও সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার চাপ বাড়ছে।