ফ্যাসিবাদ নয়, গণঅধিকার রক্ষায় আন্দোলন: শফিকুর রহমান

গণভোটের রায় অস্বীকারের অভিযোগ, বহুদলীয় সংলাপের আহ্বান।
টুইট ডেস্ক: প্রতিষ্ঠার কোন সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
শনিবার বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনে ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রধান দায়িত্ব, আর বিরোধীদলের দায়িত্ব হলো জনগণের অধিকার রক্ষা ও সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা।
সরকার যদি জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তবে তা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে; অন্যথায় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে প্রাপ্ত জনমতকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, গণভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একমত থাকলেও ফল প্রকাশের পর অবস্থান পরিবর্তন করেছে।
এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনাস্থা তৈরি হয়েছে এবং জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতির বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
ফলে জনগণের দাবির পক্ষে নতুন করে আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দেন তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে তেলের সংকট তৈরি হলেও সরকার বাস্তবতা স্বীকার করছে না।
এতে জনজীবনে ভোগান্তি বেড়েছে এবং পরিবহন খাত অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সমস্যার সমাধানে সরকার সর্বদলীয় সংলাপ এড়িয়ে যাচ্ছে।
অথচ জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সকল রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ জরুরি।
শিক্ষা খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বা ডিজিটাল শিক্ষার সিদ্ধান্ত হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শেষে তিনি বহুদলীয় সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের আহ্বান জানান এবং জনগণকে অধিকার রক্ষায় সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার ডাক দেন।






