সড়কে মৃত্যুর মিছিল: মার্চে প্রাণ গেল ৬১৯ জন

দুর্ঘটনার বড় কারণ বেপরোয়া চালনা, অদক্ষ চালক ও অব্যবস্থাপনা,বলছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
টুইট ডেস্ক: গত মার্চ মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬১৯ জন এবং আহত হয়েছেন এক হাজার ৫৪৮ জন।
একই সময়ে রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮২ জনে। আহত হয়েছেন এক হাজার ৭৯৬ জন।
শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার বড় অংশই ঘটেছে সড়কপথে, যেখানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই এককভাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৩৭ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩৯ শতাংশ।
এ ছাড়া বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া এবং পথচারী চাপার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে ঘটেছে।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ৩০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চালক, পথচারী, শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক।
নিহতদের মধ্যে ১৫০ জন চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী এবং ৮২ জন শিশু রয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন পেশাজীবীও এ তালিকায় রয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে সংগঠনটি বলছে, সড়কে অবাধে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, মহাসড়কের ত্রুটি এবং অপর্যাপ্ত অবকাঠামো বড় ভূমিকা রাখছে।
পাশাপাশি ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনটি বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস নিশ্চিত করা, মহাসড়কে আলোকসজ্জা বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।






