ভোলায় প্রধান শিক্ষক পদে বিতর্ক, ইউএনওকে আদালতের নোটিশ

বরখাস্ত শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ায় আদেশ স্থগিত, ৫ দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া
টুইট ডেস্ক: ভোলার মনপুরায় বরখাস্ত এক শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করার ঘটনায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবু মুছাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে আদালত এবং সংশ্লিষ্ট আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত বিবাদীদের ৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, গত ৩০ মার্চ ইউএনও কোনো রেজুলেশন ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষক মোঃ মাইনউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন।
এতে কমিটির সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একটি বিদ্যালয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মাইনউদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসে।
পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনে তার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি পূর্ববর্তী তথ্য গোপন করে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ লাভ করেন।
এমনকি ফলাফল শিটে নম্বর জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছে, তদন্তাধীন ও বরখাস্ত থাকা একজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী।
কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তের পেছনে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ইউএনও মোঃ আবু মুছার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আদালতের হস্তক্ষেপ প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।






