নিরাপত্তা পরিষদে ভোট স্থগিত

হরমুজ ইস্যুতে শক্তি প্রয়োগ প্রস্তাব অনিশ্চয়তায়, ভেটো আশঙ্কা।
টুইট ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সুরক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ শক্তি ব্যবহারের অনুমোদনসংক্রান্ত প্রস্তাবে ভোট স্থগিত করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুক্রবার ভোট হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়, নতুন তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ‘গুড ফ্রাইডে’ উপলক্ষে ছুটির কারণে সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে ভোট ঘোষণার সময়ই ছুটির বিষয়টি জানা থাকায় হঠাৎ স্থগিতাদেশ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্নও উঠেছে।
প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এককভাবে বা বহুজাতিক নৌ জোট গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া।
খসড়া অনুযায়ী, এ ব্যবস্থা অন্তত ছয় মাস কার্যকর থাকার কথা।উত্তেজনার কেন্দ্র হরমুজ।
সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বর্তমানে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি ও সারের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
ভেটো রাজনীতির ছায়া
প্রস্তাবটি পাস হবে কি না, তা নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন রাশিয়া ও চীন আপত্তি জানাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাদের মতে, শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে ফ্রান্স সংশোধিত খসড়ায় সামরিক ভাষা নরম করায় কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে।
নতুন প্রস্তাবে জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের সরাসরি উল্লেখ বাদ দিয়ে ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে’ জোর দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক চাপ ও বিতর্ক
এই প্রস্তাবকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত।
তবে সমালোচকরা বলছেন, সামরিক বিকল্পের বদলে রাজনৈতিক সমাধান খোঁজাই জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য ভেটোর কারণে প্রস্তাবটির পাস হওয়া কঠিন। আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে কেবল নিরাপত্তা নয়, কূটনৈতিক সমঝোতার পথই বেশি কার্যকর হতে পারে।
বিরল নজিরের পথে?
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন খুবই বিরল।
সর্বশেষ বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং লিবিয়া হস্তক্ষেপ ২০১১।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ ইস্যুতে সেই ধরনের সিদ্ধান্ত আসবে কিনা তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক সমীকরণ ও ভেটো রাজনীতির ওপর।






