সন্ধ্যা ছয়টার পর থেমে যাচ্ছে নগরজীবন

জ্বালানি সাশ্রয়ের সিদ্ধান্তে প্রথম দিনেই ভোগান্তি, অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

টুইট প্রতিবেদক: রাজধানীসহ সারা দেশে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বিপণিবিতান বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রথম দিনেই নগরজীবনে স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে।

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নেওয়া এই পদক্ষেপে সন্ধ্যার পরই থমকে যাচ্ছে কেনাকাটা ও বিনোদনকেন্দ্রিক ব্যস্ততা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ছুটির দিন হওয়ায় বিকেল থেকেই রাজধানীর প্রধান বিপণিবিতানগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়।

তবে ঘড়ির কাঁটা ছয়টা ছুঁতেই বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক ও নিউমার্কেটসহ বড় বিপণিবিতানগুলো একযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ক্রেতাদের বের করে দেন, অনেকেই কেনাকাটা অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।

হঠাৎ এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত না থাকায় বহু মানুষ সন্ধ্যার পর বিপণিবিতানে এসে পড়েন বিড়ম্বনায়।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে প্রবেশ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, দিনের তুলনায় সন্ধ্যাতেই বিক্রি বেশি হয়।

তাই অন্তত রাত আটটা পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, অনেক নাগরিক জ্বালানি সাশ্রয়ের স্বার্থে এ উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের আশঙ্কা, সন্ধ্যার পর জনসমাগম কমে গেলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জনসচেতনতা ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি জরুরি।

প্রথম দিনের বিভ্রান্তি কাটিয়ে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হয় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এর বাস্তব প্রভাব কতটুকু পড়ে,সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।