জ্বালানি সাশ্রয়ে জাতীয় শৃঙ্খলার আহ্বান

বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও স্থিতিশীলতার বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, অপচয় কমাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজের তাগিদ।

টুইট ডেস্ক: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের স্বার্থে জ্বালানি ব্যবহারে সর্বস্তরের মানুষকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেছেন, অযথা আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।

শুক্রবার বিকেলে সিলেটে নিজ বাসভবনে স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সাশ্রয় করা গেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পাবে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে।

তাই ব্যক্তিগত সুবিধার বাইরে গিয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। এই ‘চূড়ান্ত সময়’-এ সচেতনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে পারলে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, অনেক দেশেই গ্রীষ্ম ও শীত মৌসুমে সময় সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়নে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানিকৃত গ্যাসের মূল্য বাড়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিল্প উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলোর জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফলে উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই।

এছাড়া জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়েও রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।