বান্দরবানে পানির তীব্র সংকট: খালের পাশে গর্ত খুঁড়ে সংগ্রহ করছে পাহাড়ি মানুষ

দাবদাহে বান্দরবানে তীব্র সংকট, ঝরনা-ছড়া শুকিয়ে বিপাকে শতাধিক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: দাবদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার প্রভাবে বান্দরবান-এর পাহাড়ি জনপদে দেখা দিয়েছে তীব্র পানিসংকট। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় শুকিয়ে গেছে পাহাড়ি ছড়া, ঝরনা ও নালা। ফলে দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়ন-এর আমতলি মারমা পাড়ায় প্রায় ১৮০টি পরিবার এখন খালের পাশে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহ করছে। স্থানীয়ভাবে এসব গর্তকে ‘কুয়া’ বলা হয়। বর্তমানে এই কুয়ার পানিই তাদের পানীয় জলের একমাত্র ভরসা।

এলাকাটিতে ১৮০ পরিবারের জন্য রয়েছে মাত্র একটি টিউবওয়েল ও দুটি রিংওয়েল। শুষ্ক মৌসুমে এসব উৎস থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। ফলে এক কলসি পানির জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মায়ইচিং মারমা জানান, “টিউবওয়েলের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। কয়েকদিন পর হয়তো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তখন কুয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে পানিসংকট শুরু হলেও মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তা ভয়াবহ রূপ নেয়। বর্ষা না আসা পর্যন্ত এই দুর্ভোগ চলতে থাকে।

দিলীপ চৌধুরী, বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা, সতর্ক করে বলেন- কুয়ার পানি সরাসরি পান করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ পানি ছেঁকে ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দেন তিনি। ইতোমধ্যে হাসপাতালে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে অনুপম দে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, সুয়ালক ইউনিয়নকে ‘আনসাকসেসফুল জোন’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান— বহু চেষ্টা সত্ত্বেও এখানে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি। টিউবওয়েল কার্যকর না হওয়ায় রিংওয়েলই একমাত্র বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উক্যনু মারমা, সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জানান- সংকট নিরসনে আমতলি মারমা পাড়ায় আরও দুটি রিংওয়েল স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে পানির উৎসগুলো দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে পানিসংকটের তীব্রতা।