৪০০-এর বেশি জাহাজ ইরানের অনুমোদনের অপেক্ষায়

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ: ইরানের অনুমোদনের অপেক্ষায় শতাধিক জাহাজ, হরমুজে জাহাজ জট।

বিশ্ব ডেস্ক: ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালীতে এখনও শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কার অনুমতির অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষভাগে ৩৫০ থেকে ৪০০-এর বেশি জাহাজ প্রণালী পারাপারের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।

বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সামগ্রিকভাবে প্রণালীটি অধিকাংশ জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ রয়েছে।

রয়টার্স, আল জাজিরা ও বিবিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ শক্ত করেছে। শুধুমাত্র ‘অ-বিরোধী’ দেশের জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। চীন, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশের কিছু জাহাজ অনুমোদন পেলেও তা স্বাভাবিক চলাচলের তুলনায় অত্যন্ত কম। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে, যা বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ও তথ্য বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠানের হিসেবে, প্রণালীর আশপাশে দুই হাজারেরও বেশি জাহাজ বিভিন্ন পর্যায়ে আটকে রয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী জাহাজগুলোকে ‘ভূ-রাজনৈতিক যাচাই’ করে অনুমোদন দিচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ফি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এই পরিস্থিতি শুধু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিই নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, কেবল বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজই নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা হলেও সামগ্রিক সংকটের সমাধান এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রণালী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান কৌশলগত সুবিধা পেলেও এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই সংকট নিরসনের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, বিবিসি, ইরানি সরকারি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক তথ্য।