চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাটে নির্মিত হতে যাচ্ছে ক্যাবল-স্টেইড সেতু

কর্ণফুলী নদীর ওপর দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু, পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন যুগ
অসীম রায় (অশ্বিনী): দশকের পর দশক ধরে কর্ণফুলী নদী পারাপারে ফেরির ওপর নির্ভরশীল পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাটে নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু।
এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাঙামাটি ও বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা আমূল বদলে যাবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত নকশা প্রস্তুত হয়েছে এবং প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ৯ মার্চ ২০২৬-এ প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় অনুমোদন হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিলে ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে।
প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য
সেতুটি হবে স্টিল-কংক্রিট কম্পোজিট ডেকের। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৫৩২ মিটার, সঙ্গে ৪৫৫ মিটার ভায়াডাক্ট এবং ৫১১ মিটার এলিভেটেড সড়ক। চার লেনের এই সেতুতে থাকবে আধুনিক ‘ব্রিজ স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেম’ যা সেতুর স্থায়িত্ব ও স্বাস্থ্য নিরন্তর পর্যবেক্ষণ করবে। স্বয়ংক্রিয় টোল প্লাজা সুবিধাও রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৫৮৭ কোটি ১৮৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের জন্য ৭.৫২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও প্রভাব
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা এই সেতুকে ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ বলে অভিহিত করেছেন। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য সরবরাহ ও দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেতু হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।
রাইখালী বাজারের ব্যবসায়ী ও কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানরা জানান, সেতু চালু হলে কৃষিপণ্যের দ্রুত পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। রাঙামাটি-বান্দরবানের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।
সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা বলেন, “সেতু শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পকে কয়েকগুণ এগিয়ে নেবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সেতু পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বাধা দূর করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করবে। ফেরির ঝুঁকি, বিলম্ব ও অস্বস্তি লাঘব হবে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের গতির ওপর সবকিছু নির্ভর করছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে এই প্রকল্প একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। TweetNews24.com প্রকল্পের পরবর্তী অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
সূত্র: সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন






