যুবকদের মধ্যে মলাশয় ক্যান্সারের বৃদ্ধি উদ্বেগজনক

স্টুল টেস্ট ও কোলোনোস্কোপি ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত স্ক্রিনিং নতুন কেস ও দেরিতে সনাক্ত হওয়া উভয়ই হ্রাস করতে সহায়তা করে।

টু্ইট প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাপী ফুসফুসের ক্যান্সারের পরে মলাশয় ও মলদ্বারের ক্যান্সার (কোলোরেক্টাল ক্যান্সার) মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, গত ১০–১৫ বছরে ৫০ বছরের নিচের যুবকদের মধ্যে এই রোগের হার দ্রুত বেড়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত না হলে রোগটি উন্নত অবস্থায় পৌঁছে চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায়।

প্রাথমিক সনাক্তকরণই জীবন বাঁচাতে পারে

যুবকদের মধ্যে রোগবৃদ্ধির কারণ

NMC হাসপাতালের পরামর্শক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ড. হনান ইসমাইল আবুাবাকার এল মিলেক জানিয়েছেন, মূল কারণ হলো প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের কোনো লক্ষণ না থাকা, যা রোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা বিলম্বিত করে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১১–২০১৫ সালের মধ্যে ৫০ বছরের নিচে প্রায় ৩৬ শতাংশ কেস ছিল প্রারম্ভিক। এই হার প্রতি বছরে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অন্যান্য দেশে আরও দ্রুত। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০১৩ সালে ৩৭৭টি কেস থেকে ২০২১ সালে বেড়ে ৫৩২টি হয়েছে।

চিকিৎসকরা মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমা ধাঁচের খাবার (প্রক্রিয়াজাত, উচ্চ চর্বিযুক্ত, কম আঁশযুক্ত)
স্থূলতা, বিশেষ করে পেটের অতিরিক্ত চর্বি, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন।

অন্যান্য ঝুঁকিতে রয়েছে পারিবারিক ইতিহাস, প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ এবং জেনেটিক সমস্যাও।

লক্ষণ না থাকলেও ঝুঁকি থাকে

প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না। উন্নত পর্যায়ে দেখা দেয়—রক্ত মিশ্রিত মল, পেটে ব্যথা, ওজন হ্রাস, ক্লান্তি ও কম রক্তের লোহিত কণিকা। তাই ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে উচ্চ হার বিবেচনায় স্ক্রিনিং শুরু বয়স ৪০-এ নামানো হয়েছে।

ড. জাকির কে. মোহামেদ, পরামর্শক কোলোরেক্টাল সার্জন ও ন্যাশনাল মেডিক্যাল সেন্টার, দুবাই , বলেছেন, “স্টুল টেস্ট এবং কোলোনোস্কোপি নিয়মিত করলে নতুন কেস ও দেরিতে সনাক্ত হওয়া উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।”

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে ঝুঁকি কমানো যায়। চিকিৎসা ক্ষেত্রে মিনিম্যালি ইনভেসিভ সার্জারি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং রোবটিক সার্জারি সম্প্রতি ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করলে বাঁচার হার ৯০ শতাংশের বেশি।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ২০২০ সালের ১৯ লাখ নতুন কেস ২০৪০ সালে ৩২ লাখে পৌঁছাবে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত স্ক্রিনিং জরুরি।

সূত্র: সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় ক্যান্সার রেজিস্ট্রি, আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি ২০২৬ প্রতিবেদন, গাল্ফ নিউজ।