আজহারির ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া: মাঝপথে সফর বাতিল

ইসলামী শিক্ষা বনাম ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ।
বিশ্ব ডেস্ক: বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারির অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অ্যাডলফ হিটলারের প্রশংসা এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ডেইলি মেইল ও ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুসারে, ‘লেগাসি অফ ফেইথ’ শিরোনামে সিরিজ বক্তৃতা সফরে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় যাওয়ার কথা ছিল আজহারির। সফর শুরুর পর মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তাঁর ভিসা বাতিল করা হয়। তিনি বর্তমানে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে আজহারি হিটলারকে ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ এবং ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হলোকাস্টসংক্রান্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারেরও অভিযোগ উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টির সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বলেন, আজহারির আগমন সম্পর্কে বিভিন্ন গোষ্ঠী আগেই সতর্ক করেছিল। বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজসহ কয়েকটি সংগঠন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ককে তাঁকে অপসারণের অনুরোধ জানায়।
আগের নিষেধাজ্ঞা
আজহারির বিরুদ্ধে উগ্র বক্তব্যের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাংলাদেশেও জনসম্মুখে বক্তৃতায় কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। তাঁর অনলাইন অনুসারী প্রায় এক কোটি।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের দপ্তর সোমবার (৩০ মার্চ) আজহারির উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয় এবং পরদিন ভিসা বাতিল করে।
এই ঘটনা ধর্মীয় বক্তাদের আন্তর্জাতিক সফর এবং বক্তব্যের সীমা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা। তাঁর অনলাইন অনুসারী প্রায় এক কোটি এবং এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা প্রবাসীদের কাছে তিনি ইসলামী শিক্ষা, কুরআনের ব্যাখ্যা ও নৈতিক জীবনধারণ নিয়ে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। তবে ২০২৩ সালের কিছু বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল, ডেইলি টেলিগ্রাফ, নিউজ কর্পস ও অস্ট্রেলিয়ান সংসদ সদস্যদের বক্তব্য।






