যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও এ-১০ ওয়ারথগ পাঠাচ্ছে

ইরান যুদ্ধে বাড়ছে স্থল সমর্থনের প্রস্তুতি। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা, যুদ্ধের নতুন ধাপে প্রবেশের ইঙ্গিত।
টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর অন্তত ১২ থেকে ১৮টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু (ওয়ারথগ) বিমান যুক্তরাজ্যে অবতরণ করেছে। এগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাওয়ার পথে অবস্থান করছে। এই বিমানগুলো স্থল বাহিনীর নিকটবর্তী সমর্থন এবং সাঁজোয়া যান ধ্বংসে বিশেষভাবে সক্ষম।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই মোতায়েনকে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই এ-১০ বিমানগুলো ইংল্যান্ডের আরএএফ লেকেনহিথ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। এর আগে এগুলো নিউ হ্যাম্পশায়ারের পিস এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেস থেকে যাত্রা শুরু করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য এবং স্থানীয় বিমান পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট অনুসারে, আরও কয়েকটি বিমান আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
অপারেশন ইপিক ফিউরিতে নতুন মাত্রা
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অপারেশন ইপিক ফিউরিতে এ-১০ বিমান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি দ্রুতগামী নৌযান ধ্বংসে সক্রিয় রয়েছে। নতুন মোতায়েনের ফলে এই অঞ্চলে এ-১০-এর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এই বিমানগুলো স্থল বাহিনীর সরাসরি সমর্থন, ট্যাংকবিধ্বংসী অভিযান এবং নিম্ন উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের জন্য বিখ্যাত।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মোতায়েন সাধারণত সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে স্থল অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। যদিও পেন্টাগন এখনো কোনো স্থল অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, তবে সাম্প্রতিক সেনা ও মেরিন মোতায়েনের সঙ্গে এই বিমান স্থানান্তরকে অনেকে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি নৌশক্তি ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় এ-১০-এর ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নতুন এই বিমানগুলো এই অভিযানকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ এখনো এই মোতায়েন নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং স্বাধীন সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে এই এ-১০ মোতায়েন কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।
সূত্র: দ্য ওয়ার জোন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন, দ্য অ্যাভিয়েশনিস্ট, রয়টার্স ও পেন্টাগন-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন।






