কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ইরানি হামলা

আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ছে, জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এখন লক্ষ্যবস্তু।

টুইট ডেস্ক: ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি শোধনাগারের সেবা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন ভারতীয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফাতিমা আব্বাস জাওহার হায়াত জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যায় ইরানের আগ্রাসনের অংশ হিসেবে এই হামলা হয়। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

রয়টার্স, আল জাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ খবর নিশ্চিত করেছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ এ হামলাকে ‘পাপপূর্ণ আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব ক্রমশ গভীর

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে চলমান সংঘাতে কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। গত এক মাসে কুয়েতের আকাশসীমায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এর আগেও সামরিক ছাউনিতে হামলায় সেনা সদস্যরা আহত হয়েছেন।

পানি শোধনাগারের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক সংকট তৈরি করতে পারে। কুয়েতের মতো দেশগুলো পানির বড় অংশই শোধনাগারের ওপর নির্ভরশীল।

ভারতীয় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

নিহত ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যুতে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কুয়েত সরকার নিহতের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করে বলেছে, তারা বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।

ইরানের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে আঞ্চলিক সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আরও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

সূত্র: কুয়েত বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়, রয়টার্স, আল জাজিরা।