বৃষ্টিতে দূষণ ঠেকাতে থাইল্যান্ডের উদ্যোগ

উত্তরাঞ্চলে ধুলোকণা নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বৃষ্টির অভিযান জোরদার।
বিশ্ব ডেস্ক: তীব্র বায়ুদূষণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় থাইল্যান্ডের সরকারি সংস্থা রয়্যাল রেইনমেকিং অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এভিয়েশন ডিপার্টমেন্ট উত্তরাঞ্চলে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টির কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিশেষ করে চিয়াং মাই-সহ আশপাশের এলাকায় ক্ষুদ্র ধুলোকণা (পিএম২.৫) বেড়ে যাওয়ায় এই উদ্যোগকে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি ক্লাউড সিডিং পদ্ধতির মাধ্যমে মেঘে রাসায়নিক ছড়িয়ে বৃষ্টি নামানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ড্রাই আইস ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলের ধুলোকণা নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর কণাগুলোকে বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। বনাঞ্চলে আগুন, কৃষিজমিতে পোড়ানো কার্যক্রম, যানবাহনের ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার নির্গমন, সব মিলিয়ে এই সময়টিতে পিএম২.৫ মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বর থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হলেও ফেব্রুয়ারি থেকে তা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বৃষ্টির এই পদ্ধতি স্বল্পমেয়াদে কিছুটা কার্যকর হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। পর্যাপ্ত মেঘ না থাকলে এ পদ্ধতি কার্যকর হয় না এবং এটি দূষণের মূল উৎস দূর করতে পারে না। ফলে বন পোড়ানো বন্ধ, পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি চালু এবং যানবাহন ও শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণই টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই ‘রয়্যাল রেইনমেকিং’ প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল থাইল্যান্ডের সাবেক রাজা Bhumibol Adulyadej-এর উদ্যোগে। খরা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বর্তমানে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।






