পাকিস্তানে আঞ্চলিক শক্তির বৈঠক: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানে আঞ্চলিক শক্তির বৈঠক, যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার।

টুইট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সময়ে যুদ্ধ বন্ধ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে সংলাপের আহ্বান জানালেও গোপনে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো স্থল আগ্রাসনের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, আমেরিকান বাহিনী স্থলে প্রবেশ করলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন কূটনৈতিক প্রস্তাবের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা ইরান সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় স্বার্থে আপসহীন অবস্থান বজায় রাখবে।

পাকিস্তানে আঞ্চলিক বৈঠক

এদিকে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এতে অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধ বন্ধ, উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উপায় খুঁজে বের করা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইতোমধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, পাকিস্তান বর্তমান সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

উত্তেজনার বিস্তার

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠীও সংঘাতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার মেরিন সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপ সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কূটনীতি বনাম সামরিক প্রস্তুতি

বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতিও সমান্তরালভাবে চলছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুধাপ প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে তেহরান এখনো সরাসরি আলোচনায় আগ্রহ দেখায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে এবং সংঘাত কমাতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ইরানের কঠোর অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—উভয় দিকেই অগ্রগতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায়ও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা, সরকারি বিবৃতি ও কূটনৈতিক সূত্র (২৯ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ)