১ লাখ ৬২ হাজার টন গ্যাস ও তেল নিয়ে আটকে দুই জাহাজ

রওনা হলেও এখনো আটকে ২ জ্বালানিবাহী জাহাজ। কারিগরি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় যাত্রা শুরু সম্ভব হয়নি।

টুইট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি ট্যাংকার এখনো পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে। জাহাজ দুটির হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বাংলাদেশে আসার অনুমতি পেলেও কারিগরি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা এখনো রওনা হতে পারেনি।

জাহাজ দুটির বিস্তারিত তথ্য

এমটি লিব্রেথা: লাইবেরিয়া পতাকাবাহী এই জাহাজ কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে প্রায় ৬২ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে রওনা হয়েছে। বর্তমানে এটি কাতার উপকূলে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জাহাজটি আটকে আছে।

এমটি নরডিক পলুকস: কেম্যান আইল্যান্ডস পতাকাবাহী এই জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। বর্তমানে এটি রাস তানুরা বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। মার্চ মাসের শুরুতে লোড শেষ হলেও হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে যাত্রা শুরু করতে পারেনি। এছাড়া নির্দিষ্ট চার্টার কারণে অতিরিক্ত জটিলতা রয়েছে।

জাহাজ দুটির অবস্থান আন্তর্জাতিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ সেবা মারিন ট্রাফিক নিশ্চিত করেছে।

কূটনৈতিক অগ্রগতি

বাংলাদেশ সরকার ২৫ মার্চ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে জাহাজ দুটির বিস্তারিত তথ্যসহ নিরাপদ চলাচলের অনুরোধ করেছে। ইরান ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরান বাংলাদেশসহ ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাকের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ বা অ-শত্রুতাপূর্ণ দেশগুলোর জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক লিখিত অনুমতি বাংলাদেশ পায়নি এবং কারিগরি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় চাপ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬৫ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালির জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্পট বাজার থেকে অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি দ্রুত সুগম করা অপরিহার্য।