ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফায় দেশজুড়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ

বিশ্ব ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফায় সব অঙ্গরাজ্যে তিন হাজারেরও বেশি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকদের দাবি, এতে কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নিয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা মূলত ইরানসংক্রান্ত সামরিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা প্রয়োগে স্বৈরাচারী আচরণ করছে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করছে। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, “এটি জনগণের দেশ—এখানে কোনো রাজা বা ধনকুবেরের শাসন চলবে না।”

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এই বিক্ষোভকে তাচ্ছিল্য করে ‘ট্রাম্প বিভ্রান্তি থেরাপি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এসব কর্মসূচি কিছু অর্থায়িত গোষ্ঠীর উদ্যোগ মাত্র।

প্রধান শহরগুলোতে জনসমাগম

রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে লিংকন স্মৃতিসৌধের সিঁড়ি দখল করে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় উদ্যান এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত করেন। নিউ ইয়র্ক নগরীর টাইমস স্কয়ার ও ম্যানহাটনের ব্যস্ত সড়কগুলোতে হাজারো মানুষ জড়ো হলে যান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

একই চিত্র দেখা গেছে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং বোস্টনসহ বিভিন্ন বড় শহরে।

মিনেসোটায় আন্দোলনের কেন্দ্র

এবারের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য। সেন্ট পলে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত প্রধান সমাবেশে অংশ নেন সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন। তিনি একটি প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন, যেখানে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রতিফলন উঠে আসে।

সহিংসতা ও গ্রেপ্তার

লস অ্যাঞ্জেলেসে কিছু বিক্ষোভকারী ফেডারেল ভবন ঘেরাও করে আক্রমণ চালালে দুই কর্মকর্তা আহত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপ্রাণঘাতী ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে। ডালাসে পাল্টা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষেও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

তবে আয়োজকরা দাবি করেছেন, তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং বিচ্ছিন্ন সহিংসতা আন্দোলনের মূল চেতনাকে প্রতিফলিত করে না।

প্রশাসনের অবস্থান ও সমালোচনা

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কাঠামোতে পরিবর্তন আনেন। অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রয়োজনে জাতীয় রক্ষীবাহিনী মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প নিজেকে রাজা হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি দেশকে সংকট থেকে উদ্ধার করছেন। তবে সমালোচকরা এসব পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও প্যারিস, লন্ডন এবং লিসবনসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে প্রবাসী আমেরিকানরা সংহতি প্রকাশ করেছেন। আয়োজকরা আশা করছেন, এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত রূপ নেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত অক্টোবরের একই আন্দোলনের তুলনায় এবারের অংশগ্রহণ আরও বেশি হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম।