বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে হাট: খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

তারাগঞ্জ মডেল স্কুলে হাট বসায় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত; ক্ষোভ স্থানীয়দের!

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতি‌নি‌ধি: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তারাগঞ্জ ও/এ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এখন আর খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না।

সপ্তাহে দুই দিন শুক্রবার ও সোমবার মাঠজুড়ে বসছে স্থানীয় হাট। ফলে খেলাধুলা থেকে কার্যত বঞ্চিত হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় সকাল-বিকাল  খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে মুখর থাকত মাঠটি। বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। নিয়মিত বাজার বসা, গবাদিপশু চরানো এবং অব্যবস্থাপনার কারণে মাঠটির পরিবেশ এখন খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেকেই মাঠটিকে ‘গোচারণভূমি’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খেলার মাঠে বাজার বসার কারণে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আশপাশের বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। কলেজপাড়া ও গোয়ালপাড়া এলাকার মানুষদের এই মাঠের পাশ দিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু হাটবার অতিরিক্ত লোকসমাগমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মাঠটির অবকাঠামোগত অবস্থাও নাজুক। খানাখন্দে ভরা মাঠে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। নেই কোনো কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। প্রায় এক বছর আগে উপজেলা প্রশাসন মাঠটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবাদুল ইসলাম বলেন, “একসময় এই মাঠে প্রতিদিন খেলাধুলা হতো। এখন সেখানে বাজার বসছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। খেলার মাঠে বাজার বসলে শিক্ষার্থীরা কোথায় খেলবে?”

স্থানীয় বাসিন্দা তাজমুল ইসলাম তাজু একই সুরে বলেন, “মাঠটি আবার শিক্ষার্থীদের দখলে ফিরিয়ে দিতে হবে। দ্রুত বাজার উচ্ছেদ জরুরি।”

বর্তমান শিক্ষার্থী আসলাম হোসেনের কণ্ঠেও হতাশা “আমাদের মাঠে এখন বাজার বসে। আমরা খেলতে পারি না। দ্রুত মাঠটি আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত কমিশনার (ভূমি) আসমাউল হুসনা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলার মাঠ অপরিহার্য। একটি সরকারি বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত বাজার বসা শুধু শিক্ষার পরিবেশকেই ব্যাহত করছে না, দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।