৫৫ বছরেও বাড়ানো যায়নি জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝে উদ্বেগের ছায়া

টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশ দীর্ঘ ৫৫ বছরেও জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা বাড়াতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে একটি স্থায়ী ও কৌশলগত মজুত ব্যবস্থা না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্য ওঠানামার প্রভাব সরাসরি পড়ছে।

দেশের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা প্রায় সোয়া ১১ লাখ টন। এর মধ্যে ডিজেল ৬ লাখ ২৪ হাজার টন, অকটেন ৫৩ হাজার টন, পেট্রল ৩৭ হাজার টন, ফার্নেস অয়েল ১ লাখ ৪৪ হাজার টন এবং জেট ফুয়েল ৩৪ হাজার টন। অপরিশোধিত তেল প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টন।

জ্বালানি খাতের কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, খাতটি পুরোপুরি বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হবে নাকি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এ মৌলিক প্রশ্ন এখনও অনিষ্পন্ন। ব্যবসায়ীদের হাতে পুরোপুরি ছেড়ে দিলে রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

এসপিএম প্রকল্পের অচল অবস্থা

মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইনে তেল সরবরাহের জন্য এসপিএম প্রকল্পে দেড় লাখ টন অপরিশোধিত এবং ৭৫ হাজার টন পরিশোধিত তেলের মজুত ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অপারেটর নিয়োগের জটিলতায় দুই বছরেও প্রকল্পটি কার্যকর হয়নি।

ইস্টার্ন রিফাইনারির ইউনিট-টু স্থাপন অনিশ্চয়তায়

ইস্টার্ন রিফাইনারির ইউনিট-টু স্থাপন প্রকল্প ১৬ বছর ধরে স্থগিত। এটি বাস্তবায়িত হলে মজুত সক্ষমতা বর্তমানের প্রায় ৫ লাখ টন থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে। তবে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎও চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

তেল সরবরাহ এখনও সচল

মনজারে খোরশেদ আলম জানান, যদিও অটোমেশন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি, ম্যানুয়ালি তেল গ্রহণ ও সরবরাহ কার্যক্রম চলছে। তেল আসছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহও করা হচ্ছে।