‘মা আমাকে বাঁচাল, নিজে আর ফিরল না’-দৌলতদিয়ার বাসডুবিতে আলিফের বেদনা

মায়ের শেষ ধাক্কায় বেঁচে যাওয়া শিশুর কান্না

টুইট ডেস্ক: ‘আমি আর মা পাশাপাশি বসে ছিলাম। হঠাৎ বাসটা নদীতে পড়ে গেলে মা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। কিন্তু মানুষজনের চাপে মা আর বের হতে পারেনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির সেই ভয়াল মুহূর্তের কথা বলছিল ১০ বছর বয়সী আলিফ মোল্লা।

ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরা, পথেই মর্মান্তিক পরিণতি

ঈদের ছুটি শেষে মা জ্যোৎস্না বেগমের সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিল আলিফ। সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে প্রাণ হারান তার মা।

সংগ্রামী মায়ের করুণ পরিণতি

জ্যোৎস্না বেগম রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালাতেন। আলিফ স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

ফোনেই শেষ কথা, তারপর নীরবতা

আলিফের নানি শাহেদা বেগম জানান, ঘাটে পৌঁছে মেয়ে ফোন করে বলছিল ‘মা, আমরা ঘাটে।’ হঠাৎ চিৎকার, তারপর শুধু একটি বাক্য ‘আম্মা, বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে’ এরপরই লাইন কেটে যায়, আর কোনো শব্দ শোনা যায়নি।

নিজে ডুবে গিয়ে ছেলেকে বাঁচালেন মা

পরিবারের সদস্যরা জানান, শেষ মুহূর্তে জ্যোৎস্না বেগম নিজের সন্তানকে জানালা দিয়ে ঠেলে বের করে দেন। কিন্তু নিজে আর বের হতে পারেননি।

শোকে স্তব্ধ পরিবার, নিঃস্ব এক শিশু

মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা শাহেদা বেগম। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আলিফ বেঁচে ফিরলেও তার জীবনে মায়ের শূন্যতা আর কখনো পূরণ হবে না।